করোনার লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া উপায় কি কি করবেন

করোনার লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া উপায় কি কি করবেন,sribangla
করোনার লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া উপায় কি কি করবেন

বিশ্ব মহামারী হলো এখন নভেল করোনা ভাইরাস।এই ভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব থেকে প্রায় আড়াই শত লক্ষ লোক মারা গিয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় এক কোটি প্রায়। তবে কোনো লক্ষণ বর্তমানে দেখা যাচ্ছে না।তাই লক্ষণ না দেখা গেলেও অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা না নেয়ার কারণে তার পরিবারসহ পুরো এলাকা ঝুঁকির  ভিতরে পড়ে যাচ্ছে। তবে গলা ব্যাথা ও সর্দি দেখা দিলে কিছু কাজ করা অবশ্যই দরকার।বিশেষ করে সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথা হলে সাথে সাথে হাসপাতালে না গিয়ে ঘরে বসে কিছু চিকিৎসা নেয়া যেতে পারে। আর সেই চিকিৎসার কারণে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে প্রতিটি মানুষ।কারণ যদি প্রথম থেকেই কোন মানুষ সচেতন হয় তাহলে সে করোনার আর হাত থেকে বেঁচে যেতে পারে। তাই আমাদের প্রথমে নিম্নলিখিত কিছু কাজ করতে হবেঃ
১) তুলসীঃ তুলসীর গুনাগুন আমরা অনেকেই জানি তুলসী পাতা চিনি না এমন ব্যক্তি হয়তো কম পাওয়া যায়। সাধারণত হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তুলসী পাতার ব্যবহার বেশি করে থাকে।সাধারণত হিন্দুধর্মাবলম্বীরা পূজা করার জন্য এসব তুলসী পাতা ব্যবহার করে এবং তারা সেই তুলসী পাতা গুলো পুজোর পরে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। তবে তুলসীর বিভিন্ন জাত রয়েছে। শুধু তুলসী যেটাকে বলা হয় সেটা মূলত সবুজ হয়ে থাকে। এবং কৃষ্ণ তুলসী নামে একটি গাছ রয়েছে সেটার পাতা মূলত কিছুটা কালো বর্ণের হয়ে থাকে কিন্তু গন্ধ উপকারিতার দিক থেকে এটাও কমতি নয়। আরেকটি তুলসী গাছ রয়েছে সেটাকে আমরা অনেকে রামতুলসী বা বাবুই তুলসী পাতা বলে থাকি। রামতুলসী অর্থ জেনে তুলসী পাতা গুলো বড় বড় হয়ে থাকে।আবার এটাকে বাবুই তুলসী পাতা বলার কারণ হলো আগে বাবুদের বাড়িতে এইতো সেগুলো পাওয়া যেত তাই এটাকে বাবু তুলসী ও বলা হয়ে থাকে। তবে বাবু তুলসী ওরাম তুলসী একই জিনিস। এই তুলসীপাতা মূলত বড় বড় পাতা হয়ে থাকে। জ্বর কাশি গলা ব্যথার জন্য এই তুলসী পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো হয় ছোট তুলসী ও রামতুলসী একসাথে চার থেকে পাঁচটা চিবিয়ে খাওয়া। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে চার থেকে পাঁচটা তুলসী পাতা চিবিয়ে খেতে হবে। তারপর এক গ্লাস জল পান করতে হবে।তাছাড়াও দুপুর তিনটে থেকে ৪ টার ভিতরে আবার ৪ থেকে ৫ টি তুলসী পাতা চিবিয়ে খেতে হবে। এতে করে কিছুটা গলার উপকার হবে। এবং তুলসী পাতায় মার্কারি নামক পদার্থ থাকার কারণে মুখের গন্ধ দূর হবে। তাছাড়া তুলসীর বীজ বা আটি যদি ছবি খাওয়া যায় তাহলে পুরুষের বীর্য গাড়ো হয়ে থাকে। এবং তুলসী গাছের শিকড় চাবিয়ে খেলে অনেক সময় পর্যন্ত সহবাস করা যাবে।
২) হলুদঃ হলুদ আমরা প্রতিদিনের খাবারে ব্যবহার করে থাকে। হলুদটা হলুদ হওয়ার কারণে আমরা এটাকে হলুদ নামে ডেকে থাকতে। তবে হলুদের বিশেষ কিছু গুণাগুণ রয়েছে।কাঁচা হলুদ যদি সেবন করা যায় তাহলে পেটের বায়ু দূর হয়। এবং পেট ব্যথা নিরাময় হয়। তাছাড়াও করোনা লক্ষণ দেখা দিলে কাঁচা হলুদের রস হাতে ও পায়ে দিতে হবে সরিষার তেল একত্র করে। এবং হলুদ চিবিয়ে  জল দিয়ে খেতে হবে প্রতিদিন সকাল বেলাতে। করোনা লক্ষণ দেখা দেওয়া ছাড়াও এটা খাওয়া যেতে পারে কারণ হলুদ খাওয়ার কারণে পেটের সমস্যা দূর হয় এবং ব্রন দূর হয়। হলুদ গায়ে দিলে গায়ের বর্ণ উজ্জল হয় এবং চর্ম জাতীয় রোগ কমে। তাই হলুদ খাওয়া অত্যন্ত উপকারী বিশেষ করে কাঁচা হলুদ তরকারি রান্না করে খেলে অত্যাধিক উপকার পাওয়া যায়।
৩) রং চা বা কালার চাঃ আমরা যা প্রতিদিন খেয়ে থাকি চা খায় না এমন মানুষ হয়তো এই জগতে কম রয়েছে।কেউ হয়তো বিলাসিতার কারণেও চা খেয়ে থাকে আবার কেউ হয়তো তার একটি নেশাকে করে নিয়েছে এই চা খাওয়া কে। যদি আমরা প্রতিদিন চা খেয়ে থাকি তাহলে সেটা নেশায় পরিণত হয়। এবং আমরা যদি মাঝে মাঝে বা ইচ্ছেমতো চা খেয়ে থাকি তাহলে সেটা হয়তো একটু বিলাসিতা বা আনন্দ উপভোগ করা। তবে তাতে প্রচুর পরিমাণে উপকারী পদার্থ রয়েছে। কিন্তু শুধু চাতে নয়। যাকে উপকারী পদার্থ করতে হলে আমাদের কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। চায়ের সাথে আমাদের অবশ্যই দারুচিনি, এলাচ ,লবঙ্গ, পুদিনা, আদা, জিরা, কালিজিরা বা কালোজিরা সহ মসলা জাতীয় কিছু দিয়ে এটা সেবন করা যেতে পারে। তাহলে চায়ের উপকারিতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। করোনার লক্ষণ দেখা দিলে প্রতিদিন দিনে চার থেকে পাঁচবার রং চা কালার চা খেতে হবে। এতে করে গলার কিছুটা উপকার হবে।এবং গলায় আটকে থাকা করোনা নামক ভাইরাস পদার্থটি পেটের ভিতরে গিয়ে পাকস্থলীতে অবস্থান করবে এবং পাকস্থলীর  হজম পদার্থ এই ভাইরাসকে হজম করবে। এবং মলদ্বার থেকে বের করে দিবে। তাই প্রতিদিন চার থেকে পাঁচবার চা সেবন করতে হবে। তাছাড়াও পাঁচ থেকে সাত বার লবণ জল বা ভিনেগার মিশ্রিত জল দিয়ে গড়গড়া করতে হবে এতে করে গলায় কিছুটা আরাম বোধ হবে। এবং ভাইরাস দূরীভূত হওয়ার কিছুটা লক্ষণ পাওয়া যাবে।
৪) তেলঃ সরিষার তেল মূলত তৈরি হয় সরিষা থেকে তাছাড়াও সরিষার তেল আমরা বিভিন্ন কোয়ালিটির দেখতে পাই যেমন সূর্যমুখীর বীজ থেকে সূর্যমুখী তেল তৈরি হয়। এছাড়া অনেক উপায় তেল পাওয়া যায় তিল থেকেও তেল পাওয়া যায়। তেল আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী একটি দ্রব্য। তেল দিয়ে আমরা রান্না করি তবে সরিষার তেল বা তিল তেল আমাদের শরীরের জন্য বেশি উপকারী। তিল তেল যদি আমরা নাভির গোড়াতে দিয়ে থাকি তাহলে ব্রণ দূর হয়। তাছাড়াও করো না আর যদি লক্ষণ দেখা দেয় অবশ্যই তিল তেলের ব্যবহার করতে হবে। যদি তেল তেল না পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই সরিষার তেল ব্যবহার করতে হবে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ের নিচে তেল মালিশ করতে হবে। এবং দুই হাতে তেল মালিশ করতে হবে। হাতে ও পায়ে ঘর্ষণ করে হাত ও পা  গরম করে নিতে হবে। এতে করে শরীর গরম হবে এবং শরীরের অনেক উপকার হবে। এবং নাকে সরিষার তেল টানতে হবে (তেলের ঘোষিত হাত নাকের কাছে নিয়ে শ্বাস নিতে হবে) এতে করে শরীরের জন্য খুব উপকার হবে। প্রতিদিন এরকম করতে হবে।
এবং এতে করে আশা করা যায় কোন ব্যক্তি যদি করোনা এখন আক্রান্ত হয় তাহলে সে সুস্থ হবে এবং এতে যদি সে সুস্থ বোধ না করে তাহলে অবশ্যই তাকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। তাছাড়াও সে বাড়িতে বসে প্যারাসিটামল, মোনাস, গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট শহর ডাক্তারের নির্দেশিত কিছু পথ্য ও ঔষধ  গ্রহণ করতে হবে। অবশ্যই করোনা সময় কখনো ভয় পাওয়া যাবে না। কারণ ভয় পেলে আমাদের হার্ট দুর্বল হয়ে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতে নষ্ট হয়ে যায়। তাই অবশ্যই সাহস রাখতে হবে এবং সৃষ্টিকর্তাকে সব সময় স্মরণ করতে হবে।

2 comments:

  1. চমৎকার এবং সাহায্যকারী টিপস, ধন্যবাদ প্রকাশককে।

    ReplyDelete

আপনার মতামত লিখুন

Powered by Blogger.